কোটা আন্দোলন ঘিরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরকারি অফিস ভাঙচুর ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, জহির উদ্দিন স্বপন, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, কোষাধক্ষ্য রাশেদুজ্জামান মিল্লাত, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল আলম নিরব, সদস্যসচিব আমিনুল হক, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনুকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আরও গ্রেপ্তার হয়েছেন বিএনপির যুববিষয়ক সহসম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তারিকুল আলম তেনজিং, সৈয়দ জাহাঙ্গীর হোসেন, যুবদলের সাবেক সহসভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক সাদ মোর্শেদ হোসেন পাপ্পা শিকদার। গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড এলাকা থেকে এ্যানিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ্যানির বড় ভাই হেপী চৌধুরীর বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
এদিকে কোটা আন্দোলনের ব্যানারে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চলাকালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) রামপুরা ভবনে ব্যাপক হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ ৬ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কারাগারে পাঠানো অন্য আসামিরা হলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সায়েদুল আলম বাবুল, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক, বিএনপির এমএ সালাম ও মাহমুদুস সালেহীন।
গতকাল শুক্রবার পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। অপর দিকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাদের জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আরোবিয়া খানম তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে ২১ জুলাই তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
মামলার অভিযোগে বাদি মাহফুজা আক্তার উল্লেখ করেন, গত ১৮ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টায় ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন লেখা সম্বলিত ব্যানার নিয়ে ডিআইটি রোডগামী রামপুরা ট্রাফিক পুলিশ বক্স ও বিটিভি ভবনের সামনের সড়কে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা তাদের বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেন। এরপরই বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের নির্দেশ এবং সক্রিয় অংশগ্রহণে অজ্ঞাতনামা তিন-চার হাজার কর্মী সরকার বিরোধী বিভিন্ন সেøাগান দিতে থাকে।
আসামিরা দায়িত্বরত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের বাধা উপেক্ষা করে বিটিভি ভবনের প্রধান চারটি গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে ভবনের ভেতর ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। টেলিভিশন ভবনে কর্মরত বিভিন্ন কর্মকর্তাদের নাম ও পদবি উল্লেখ করে খোঁজাখুঁজি করে প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। তারা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ভেতরে থাকা রাষ্ট্রীয় মালামাল ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধন করে। যার ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা। একপর্যায়ে পুলিশ ও বিজিবি রাত ৯টার দিকে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা লুটপাট, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস ও হত্যার উদ্দেশে লাঠিসোটা ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবৈধভাবে বিটিভি ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর তারা ভবনটিতে আক্রমণ চালায় এবং ইট পাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। এ সময় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এজহারে বাদি আরও উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি সম্প্রচার কাজে নিয়োজিত পোর্টেবল ডিএসএনজি সিস্টেমের সব সম্প্রচার যন্ত্রপাতি এবং এসব যন্ত্রপাতি পরিবহন কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস, কেন্দ্রীয় শীতাতপ ব্যবস্থার প্রভূত ক্ষতিসাধন ও অগ্নিসংযোগ, ১৭টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ৯টি গাড়ি ভাঙচুর, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ২১টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর, বিটিভির মূল ভবনের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট, ঢাকা কেন্দ্রের রিসিপশনে অগ্নিসংযোগ, ট্রান্সপোর্ট ভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর, ক্যান্টিনে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট এবং ভাঙচুর, অডিটোরিয়ামে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর, মেকআপ শাখা ভাঙচুর, ডিজাইন শাখার মেকআপ (ওয়ার্কশপ, স্টোর, ওয়ারড্রব ও গ্রাফিক্স রুম) রুমে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করেছে অন্দোলনকারীরা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

বিএনপির যেসব নেতা গ্রেফতার হয়েছেন
- আপলোড সময় : ২৭-০৭-২০২৪ ১২:২২:৫৭ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৭-০৭-২০২৪ ১২:২২:৫৭ অপরাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ